রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আলী আল-সামুদি তখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন চিকিৎসকেরা। ঠিক তখনই হাসপাতালে আনা হয় তাঁর সহকর্মী শিরিন আবু আকলেহর মরদেহ।
২০২২ সালের ১১ মে পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থীশিবিরে দায়িত্ব পালনকালে গুলিতে নিহত হন আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। একই ঘটনায় আহত হন আলী আল-সামুদি।
ঘটনার স্মৃতিচারণা করে আল-সামুদি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি পাশ ফিরে শিরিনকে পড়ে থাকতে দেখেছিলাম। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমি চিৎকার করছিলাম, তাঁর কাছে যেতে চাইছিলাম। কিন্তু আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি।’
আল-সামুদি বলেন, মাঠে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, শিরিন নিহত হয়েছেন।
সেদিন সকালে জেনিন শরণার্থীশিবিরের পশ্চিম পাশে অভিযান চালাচ্ছিল ইসরায়েলি বাহিনী। আল-সামুদি, শিরিনসহ কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান। তাঁদের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট ও হেলমেট ছিল।
আলী আল-সামুদি বলেন, সেখানে কোনো ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ছিল না। কোনো সংঘর্ষও হচ্ছিল না।
‘আমরা সাংবাদিকেরা আলাদা ছিলাম। সেনাদের কাছাকাছি গিয়ে নিরাপদ জায়গা থেকে খবর সংগ্রহ করতে চেয়েছিলাম,’ বলেন আলী আল-সামুদি।
হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। আল-সামুদি বলেন, তিনি শিরিনকে পেছনে সরে যেতে বলছিলেন। ঠিক তখনই তাঁর পিঠে গুলি লাগে।
আল-সামুদি আরও বলেন, ‘আমি ঘুরে দাঁড়ানোয় গুলিটি পিঠে লাগে। সম্ভবত সেনারা আমাকে বুকে গুলি করতে চেয়েছিল।’
আল-সামুদি জানান, শিরিনের শেষ কথা ছিল, ‘আলী আহত হয়েছে।’ এরপর স্নাইপার থেকে অনবরত গুলি চলতে থাকে। শিরিন একটি দেয়ালের পাশে আশ্রয় নিলেও রক্ষা পাননি। হেলমেট ও জ্যাকেটের মাঝখানের সামান্য উন্মুক্ত স্থানে—ঘাড়ে গুলি লাগে তাঁর। এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না বলে দাবি সামুদির।