রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
কেব্ল নিউজ নেটওয়ার্ক’ সিএনএন নামেই বেশি পরিচিত। সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন টেড টার্নার, যিনি ২৪ ঘণ্টা সংবাদজগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। তিনি ৮৭ বছর বয়সে ৬ মে ফ্লোরিডায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
টেড টার্নার ছিলেন এক দূরদর্শী, ব্যতিক্রমী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব, যিনি চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ২৪ ঘণ্টাব্যাপী সম্প্রচার নেটওয়ার্ক সিএনএনের জন্য। সিএনএন যত দিন থাকবে, তত দিন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁকে স্মরণ করবে এবং শ্রদ্ধা জানাবে।
সিএনএন আর কত দিন থাকবে
সেটাও টার্নার বলে গেছেন সিএনএন শুরু করার সময়। টার্নার ঘোষণা করেছিলেন: ‘পৃথিবী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের সম্প্রচার বন্ধ করব না। আমরা সম্প্রচারে থাকব, আমরা পৃথিবী ধ্বংসের ঘটনাও সরাসরি কাভার করব, আর সেটাই হবে আমাদের সর্বশেষ ঘটনা, একেবারে শেষ সংবাদ।’
সিএনএন পৃথিবীর যেকোনো দেশে যাঁরা খবর পড়েন বা খবর দেখেন—সবার কাছে খুবই পরিচিত নাম। আমি, আপনি এবং আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, যেকোনো ভাষায় সংবাদমাধ্যমে খবর পেয়ে থাকি না কেন, আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে সিএনএনের গ্রাহক। কারণ, সিএনএনের বরাত দিয়ে পৃথিবীর প্রতিটি সংবাদমাধ্যম প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু খবর পরিবেশন করে থাকে।
সিএনএন ২৪ ঘণ্টা খবর পরিবেশন করে। পৃথিবীর যেকোনো কোণে, যেকোনো দেশে যদি হঠাৎ কোনো সংবাদযোগ্য ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সিএনএনের কর্মীরা সেখানে ক্যামেরা নিয়ে হাজির হবেন এবং ‘লাইভ’ সংবাদ পরিবেশন করবেন। সেই সংবাদ যুদ্ধ, ভূমিকম্প, সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা নির্বাচন, যা–ই হোক না কেন! সিএনএন নামটার সঙ্গে আছে একধরনের বিশ্বাসযোগ্যতা।
১৯৮০ সালের ১ জুন যাত্রা শুরু হয়েছিল সিএনএনের। টেড টার্নার তখন ছিলেন একটা ছোট রেডিও স্টেশনের মালিক। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারণায় যাঁর তেমন কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না, সেই টেড টার্নার শুরু করেন ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল সিএনএন। সিএনএন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের সম্ভ্রান্ত সংবাদমাধ্যমগুলোয়, বলা চলে হাসাহাসি শুরু হয়ে যায় সিএনএনকে নিয়ে। নিন্দুকেরা সিএনএনের নাম রাখলেন ‘চিকেন নুডলস নেটওয়ার্ক’।