বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
গাজীপুরে ওয়ারিশ সনদে বোনের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :
গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালা এলাকায় ওয়ারিশ সনদে এক বোনের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ভাইদের বিরুদ্ধে।
মৃত ইব্রাহিমের মেয়ে মোছা.সমলা খাতুনকে ওয়ারিশ সনদে অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগে পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে সমলা খাতুনকে ইব্রাহিমের মেয়ে হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নাতী কাসেম বাদী হয়ে গত ১ আগস্ট২০২৬ইং জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বানিয়ারচালা গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিন ফকিরের ছেলে ইব্রাহিম মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, চার ছেলে ও নয় মেয়েসহ একাধিক ওয়ারিশ রেখে যান। পরবর্তীতে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা যান।
ইব্রাহিম এর ওয়ারিশদের মধ্যে রয়েছেন, হাজেরা খাতুন মৃত জোবেদা খাতুন, মো. জমির আলী ফকির, মো. তমিজ উদ্দিন, মো. নুরুল ইসলাম ফকির, মো. ইউসুফ হাসান, মোছা. রমিজা খাতুন, আজিদা খাতুন, হামিদা বেগম, মোছা. মরিয়ম, মোছা. ফাতেমা খাতুন, মোছা. ছবিলা খাতুন, মোছা. সমলা খাতুন, মোছা. কুলসুম ও মোছা. ওম্মেহানি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওয়ারিশ সনদ প্রস্তুতের সময় ইব্রাহিমের মেয়ে সমলা খাতুনের নাম বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমকর্মীরা বানিয়ারচালা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় পরিবারের কয়েকজন বোন সমলা খাতুনকে তাদের বোন হিসেবে পরিচয় দেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গেও কথা হলে তারাও জানান, সমলা খাতুন মৃত ইব্রাহিমের মেয়ে ছিলেন।
এ বিষয়ে ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতাব উদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনিও বলেন, সমলা খাতুন ইব্রাহিমের মেয়ে।
অভিযোগের বিষয়ে পরিবারের সংশ্লিষ্ট ভাইদের বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের বাড়িতে যান।
মো. তমিজ উদ্দিনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা জানান এবং পরবর্তীতে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মো. নুরুল ইসলাম ফকিরের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী জানান, তিনি বাড়িতে নেই। অন্যদিকে মো. ইউসুফ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফলে সমলা খাতুনের নাম ওয়ারিশ সনদে বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভাইদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাম পুলিশ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতাব উদ্দিনের তদন্তের ভিত্তিতে সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে সমলা খাতুনের নাম সংশোধন করে সংশ্লিষ্টদের ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়।
থানায় অভিযোগ,তদন্তে পুলিশ
ওয়ারিশ সনদে সমলা খাতুনের নাম বাদ দেওয়া এবং তাকে ওয়ারিশ হিসেবে অস্বীকার করার অভিযোগে কাসেম বাদী হয়ে গত ১ আগস্ট ২০২৬ জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জয়দেবপুর থানার আয়ু এসআই মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।