শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়ায় পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ
মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ:
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবকের ভাই মো. নুরুজ্জামান হোসেন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। যাহার জগন্নাথপুর থানার মামলা নং-১২ তারিখ: ১৪/০৭/২০২৬ ইং।
মামলার বিবরণ ও এজাহার থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের মো. তাজিল মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামানকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করে একটি পাচারকারী চক্র। চক্রের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানার হাওলাদারপাড়া এলাকার মামলার প্রধান আসামী শিপন আহমদ, দিরাই উপজেলার ফজলুর রহমান এবং রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা বাড়ি এসে তিনখানা স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু এক মাসের মধ্যে ইতালি পাঠানোর কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে এক অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলে দুবাইতে অবস্থানরত তার ভাই নুরুজ্জামান অন্য উপায়ে তাকে উদ্ধার করে দুবাই নিয়ে যান। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আসামীরা দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
সুবিচারের আশায় বাদী মো. নুরুজ্জামান হোসেন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবিতে হস্তান্তরের লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর হোসেন আসামিদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
তাদেরকে গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছেন। এমনকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে পুলিশকে আসামিদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার পরও আসামি গ্রেফতার করছেন না।
সিলেটের রাজনৈতিক প্রভাব ও ফেইসবুক সাংবাদিকদের ব্যবহার করে তদন্ত কাজ প্রভাবিত করার চেষ্টা করার অভিযোগ। এই বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার এস.আই নুর হোসেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ আমার কাছে আছে, আমি বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। উক্ত মামলার এক নং আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে তিনি জানান, এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি আদালতে মোকাবেলা করবো। চার নং আসামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে ফজলুর রহমান জানান, এই বিষয়ে তিনি কোন কিছুই জানেন না এবং পরে কথা বলবো বলে ফোন কেটে দেন। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।