রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ নিহতের পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ডিপটির গলিতে ইয়ানুর (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. হানিফ হাওলাদার বাদী হয়ে তার মেয়ের স্বামী মো. জিকিরুল (৩২) ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কদমতলী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে জিকিরুলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইয়ানুর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। বাদীর দাবি, প্রায় ৫-৬ মাস আগে ইয়ানুরকে তার প্রথম স্বামীর সংসার থেকে নিয়ে এসে জিকিরুল বিয়ে করেন।
বিয়ের পর তারা কদমতলী থানাধীন ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের ডিপটির গলির ৬৭০ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের বাবা এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে ইয়ানুর ও জিকিরুলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। মেয়েকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সুযোগ পেলে ইয়ানুর পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করতেন।
গভীর রাতে ফোন—তারপর দুই নম্বরই বন্ধ পরিবারের অভিযোগ ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে জিকিরুলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ইয়ানুরের মায়ের মোবাইলে ফোন আসে। এরপর রাতের শেষভাগে ইয়ানুরের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকেও তার মায়ের নম্বরে একাধিকবার ফোন আসে।
তবে ওই সময় ইয়ানুরের মা ঘুমিয়ে থাকায় ফোনগুলো রিসিভ করতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা ইয়ানুর ও জিকিরুলের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে উভয় নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন নিহতের বাবা। পরে মেয়ের ভাড়া বাসার বাড়িওয়ালার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তারা মেয়ের অবস্থান জানতে চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের গড়িমসির অভিযোগ:
এদিকে, নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও প্রধান আসামি জিকিরুলকে গ্রেপ্তারে কদমতলী থানা পুলিশ গড়িমসি করছে।
তাদের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তারা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।